‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আইসিসি-আক্সার স্বাস্থ্যবীমা চুক্তির অবসান

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও ফরাসি বীমা প্রতিষ্ঠান আক্সা পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের স্বাস্থ্যবীমা চুক্তি শেষ করেছে। ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। আইসিসি কারণ জানায়নি। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে আক্সা ও আইসিসি কয়েক মাস আলোচনা করেও কার্যকর সমাধান পায়নি।

চুক্তিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাতিল হয়েছে, নাকি মেয়াদ শেষে আর নবায়ন করা হয়নি, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে আইসিসির ১৮ বিচারকের ৯ জন, দুই উপ-প্রসিকিউটর, সাবেক প্রসিকিউটর ও একজন কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি স্বাস্থ্যবীমার আওতায় থাকলে তার চিকিৎসা ব্যয় বা বীমা দাবি পরিশোধে বাধা আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতিও লাগতে পারে।

আইসিসি নতুন একটি স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠান নিয়েছে, তবে নাম প্রকাশ করেনি। নতুন বীমাকারী কীভাবে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি সামলাবে, প্রিমিয়াম বেড়েছে কি না বা বীমা সুবিধায় পরিবর্তন এসেছে কি না, তাও জানা যায়নি।

আক্সার স্বাস্থ্যবীমার আওতায় কতজন কর্মী ও পরিবারের সদস্য ছিলেন, আইসিসি বছরে কত প্রিমিয়াম দিত, চুক্তির মোট মূল্য কত ছিল এবং বছরে কত বীমা দাবি পরিশোধ হতো, এসব তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তি শেষ হওয়ায় আক্সার ওপর আর্থিক প্রভাব কতটা, তা বলা যাচ্ছে না।

নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকলে আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানিগুলোকে পলিসিধারীর পাশাপাশি ব্যাংক, দালাল, পুনর্বীমাকারী ও অর্থ পরিশোধের মাধ্যমও যাচাই করতে হতে পারে।

বাংলাদেশেও বীমা কোম্পানিকে নতুন গ্রাহক নেয়ার সময় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকা যাচাই করতে হয়। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৬ সালের ই-কেওয়াইসি নির্দেশিকায় এ বিষয়টি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক পরিচয় ও অর্থপাচারের ঝুঁকির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও যাচাই করতে হয়।

তবে দেশের বীমা কোম্পানিগুলো এই যাচাই কতটা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে করছে, সে বিষয়ে খাতভিত্তিক তথ্য নেই। বিদেশি পুনর্বীমাকারী বা দালালের ক্ষেত্রে মার্কিন বা অন্য দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকা যাচাই নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) আলাদা নির্দেশনাও পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকার সঙ্গে কারও নাম নিশ্চিতভাবে মিলে গেলে সংশ্লিষ্ট হিসাব বা লেনদেন স্থগিত হতে পারে। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম থাকলেই বাংলাদেশে বীমা দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে, এমন নিয়ম পাওয়া যায়নি। বিদেশি ব্যাংক, পুনর্বীমাকারী বা দালাল জড়িত থাকলে অর্থ পরিশোধে দেরি বা বাধা আসতে পারে।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌