আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লাইফ বীমার বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির কোরিয়া লাইফ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (কেএলআইএ) ২০২৭ সালের মধ্যে ১৭টি এআই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।
এরই মধ্যে গ্রাহকের অভিযোগ সামলানো, বীমার বিজ্ঞাপন যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন খুঁজে দেয়ার কাজে তিনটি এআই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
অভিযোগ ব্যবস্থাপনার এআই গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে হওয়া কথোপকথন সঙ্গে সঙ্গে লেখায় রূপান্তর করবে। এরপর অভিযোগের ধরন শনাক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সম্ভাব্য উত্তর দেখাবে। তবে এআই কোনো অভিযোগ ভুলভাবে শনাক্ত করলে বা ভুল তথ্য দিলে দায় কার হবে- কেএলআইএ, প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাকি সংশ্লিষ্ট কর্মীর- তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বীমার বিজ্ঞাপন যাচাইয়েও এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি প্রথমে দেখবে বিজ্ঞাপনটি কেএলআইএ'র নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কি না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অতিরঞ্জিত দাবি বা প্রয়োজনীয় তথ্য বাদ পড়েছে কি না- এআই ঠিক কোন বিষয়গুলো শনাক্ত করবে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আরেকটি এআই ব্যবস্থা কেএলআইএ'র ১৩৬টি নিজস্ব নিয়মের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্ট আইনি ভিত্তি খুঁজে দেবে। পরে বীমা প্রতিনিধি নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি, আইনি বিষয় ও চুক্তিপত্র যাচাই, বিদেশি নথি অনুবাদ এবং পরিসংখ্যান যাচাইয়েও এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেএলআইএ ২০২৪ সাল থেকেই এআই নিয়ে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষামূলক কাজ করছে। একই ধরনের কাজে সময় বাঁচানো এবং গ্রাহকসেবা দ্রুত করাই এর লক্ষ্য। তবে প্রকাশিত তথ্যে ১৭টি প্রকল্প বলতে ১৭টি আলাদা সফটওয়্যার, নাকি ১৭ ধরনের কাজে এআই ব্যবহার বোঝানো হয়েছে- বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। এসব প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি সরবরাহ করবে, সে তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
সব প্রকল্পের প্রভাব গ্রাহকের ওপর সরাসরি পড়বে না। অভিযোগ ব্যবস্থাপনার মতো কিছু ব্যবস্থা গ্রাহকসেবায় ব্যবহার হবে। আবার নিয়মকানুন খোঁজা বা নথি যাচাইয়ের মতো ব্যবস্থা কেএলআইএ'র নিজস্ব কাজে ব্যবহৃত হবে।
গ্রাহকের ফোনালাপে ব্যক্তিগত, বীমা ও আর্থিক তথ্য থাকতে পারে। এসব তথ্যের কোন অংশ রাখা হবে, কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে ব্যবহার হবে কি না বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তা দেখতে পারবে কি না- এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তথ্য ফাঁস হলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে কিংবা এআইয়ের সহায়তায় নেয়া সিদ্ধান্ত মানুষের মাধ্যমে আবার যাচাই করা যাবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।
প্রতিটি এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি আলাদাভাবে যাচাই করা হবে কি না এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বাধীনভাবে এসব ব্যবস্থা পরীক্ষা করবে কি না, সে তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে স্যামসাং লাইফ, হানওয়া লাইফ ও কিয়োবো লাইফও নিজেদের কাজে এআই ব্যবহার বাড়াচ্ছে। এতে বড় ও ছোট লাইফ বীমা কোম্পানির এআই ব্যবহারের সক্ষমতার পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। তবে এই পার্থক্য কতটা, তার নির্দিষ্ট তুলনামূলক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তবে ২০২৭ সালের মধ্যে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এগুলো কতটা কার্যকর ও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এআই কতটা সঠিকভাবে কাজ করে, গ্রাহকের তথ্য কতটা নিরাপদ থাকে, ভুল হলে দায় কে নেয় এবং শেষ সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে কি না- এসব বিষয়ের ওপরই উদ্যোগটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।