‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌
‌

‌

জুরিখ ও বেজলির বড় চুক্তি, বাংলাদেশে আসতে পারে যেসব বীমা পণ্য

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইবার হামলায় ব্যবসা বন্ধ, ঘূর্ণিঝড়ে কারখানার ক্ষতি কিংবা বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে টাকা না পাওয়া- ব্যবসায় এমন ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশেও নতুন ধরনের বীমার প্রয়োজন বাড়তে পারে। এমন সময়ে ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকায় যুক্তরাজ্যের বেজলিকে অধিগ্রহণ করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জুরিখ ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি এখনো বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর ঘোষণা দেয়নি।

২ অক্টোবর অধিগ্রহণ সম্পন্নের ঘোষণা দেয় জুরিখ। বেজলির প্রতি শেয়ারের জন্য নগদ ও লভ্যাংশ মিলিয়ে ১ হাজার ৩৩৫ পেন্স বা ১৩ দশমিক ৩৫ পাউন্ড দেয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ১৮০ টাকা। ব্রিটিশ মুদ্রায় ১০০ পেন্সে ১ পাউন্ড। ১৬ জানুয়ারি বেজলির শেয়ারদর ছিল ৮২০ পেন্স বা ৮ দশমিক ২০ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ টাকা। সেই দরের তুলনায় জুরিখ প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি মূল্য দিয়েছে।

বেজলি সাইবার, সম্পত্তি, মেরিন, বিমান ও রাজনৈতিক ঝুঁকির বীমা ব্যবসায় পরিচিত। জুরিখের মতে, প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি বাছাইয়ের দক্ষতা, সাইবার বীমায় শক্ত অবস্থান এবং লয়েডস অব লন্ডনে উপস্থিতি এই অধিগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৫ সালে বেজলির বীমা প্রিমিয়াম ছিল ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এর ১৯ শতাংশ এসেছে সাইবার বীমা থেকে। একই বছরে প্রতিষ্ঠানটির কম্বাইন্ড রেশিও ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ। এই অনুপাত ১০০ শতাংশের নিচে থাকলে সাধারণত মূল বীমা ব্যবসা লাভজনক বলে ধরা হয়।

বেজলিকে অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রথমবার লয়েডস অব লন্ডনে প্রবেশ করেছে জুরিখ। এটি বড় ও জটিল ঝুঁকির বীমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজার। এর ফলে আরও বেশি ব্রোকার ও গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বড় অঙ্কের ঝুঁকি বীমার আওতায় আনার সুযোগ বাড়বে।

সাইবার বীমায় বেজলির অভিজ্ঞতার সঙ্গে জুরিখের বড় মূলধন ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক যুক্ত হওয়ায় এ খাতে সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। জুরিখের দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকির বীমা ব্যবসার সম্মিলিত প্রিমিয়াম প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং একীভূত প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হবে।

২০২৯ সালের মধ্যে বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত আয় এবং অন্তত ১৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে তা অর্জনে বেজলির দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা, স্বাধীনভাবে ঝুঁকি যাচাইয়ের পদ্ধতি বজায় রাখা এবং দুই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সফলভাবে এক করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হতে পারে সাইবার হামলা ও তথ্যচুরির বীমা, মেরিন ও কার্গো বীমা, বিমান বীমা, পরিচালক-কর্মকর্তার দায় এবং পেশাগত ভুলের বীমা। বিদেশি ক্রেতার টাকা না পাওয়া, রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়ার বীমাও সম্ভাব্য ক্ষেত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের মোট বীমা প্রিমিয়াম ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ। এসব পণ্য চালু করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ দেশের আইন মানতে হবে। বাজারে সফল হতে গ্রাহকের চাহিদা, স্থানীয় অংশীদারিত্ব এবং দ্রুত দাবি পরিশোধের সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এসব পণ্য বাংলাদেশে এলে করপোরেট বীমায় নতুন ধরনের ঝুঁকির সুরক্ষা বাড়তে পারে।

মন্তব্য সমূহ (০)

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

‌