জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতার দু’টো স্বপ্ন ছি্ল। একটি হলো ভৌগলিক মুক্তি; আরেকটি হলো- অর্থনৈতিক মুক্তি। ভৌগলিক মুক্তি তিনি তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পেরেছিলেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির কাজটি তার জীবদ্দশায় অসমাপ্ত  রয়েছে। তিনি যে ভৌগলিক মুক্তি আমাদের দিয়েছেন তার সুবিধাভোগী আমরা সকলেই। তার এই অসমাপ্ত কাজটির দায়িত্ব আমাদের সকলের। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ তার উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। আধূনিক বাংলাদেশের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে হবে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজকে সম্পন্ন করতে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে “জাতীয় শোক দিবস ২০২১ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল” আয়োজন করে। আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ এর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ।  

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ আসাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেনন্ট শেখ কবির হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরাম (বিআইএফ)'র প্রেসিডেন্ট বিএম ইউসুফ আলীসহ সকল বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারমানগণ।  

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে জগন্যতম অধ্যায় হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মীনীসহ ছোট শিশু রাসেলও ঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এই হত্যাকন্ডের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া। এই রাতে যারা নিহত হয়েছেন তারা সকলেই শহীদ হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে নোবেল জয়ী জার্মান নাগরিক উইলি ব্রানডটি  বলেন, যারা মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা সকল জগণ্য কাজই করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডন টাইম নিউজ করেছে যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডকে বাংলাদেশের মানুষ অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তাকে স্বরণ করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে এর পটভূমি তৈরি করতে হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ এ দীর্ঘ সময় বাঙ্গালী জাতির জন্য কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু।১৯৭১সালে তার ডাকেই বাঙ্গালীরা স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই জাতিকে তিনি দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম একটি পতাকা।এ দেশের নাম তিনিই দিয়েছেন।জাতিকে এই দুর্লভ উপহারদানের মাধ্যমে তিনি বঙ্গবন্ধু উপাদিতে ভূষিত হন এবং কালক্রমে তিনি হয়ে উঠেছেন জাতির পিতা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রক্কালে বাংলাদেশের কোনো্ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল না। বাংলাদেশের মানুষের হাতে মাত্র ৪কোটি টাকা ছিল। মাত্র ১০ হাজারের মতো নথি নিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ সচিবালয়।ঢাকার সঙ্গে মাত্র তিনটি জেলার সংযোগ ছিল। পাকিস্তানি দোসরা ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল মূদ্রাগুলো রাস্তায় এনে আগুন দেয়। সেই ধ্বংস স্তুপ থেকেই বাংলাদেশকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন বঙ্গবন্ধু। তার নেয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোর ওপরই আজ দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের উন্নয়নের অর্থনীতি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে না থাকলেও তার কর্মগুলোর মাধ্যমে তিনি চিরঞ্জীব। বঙ্গবন্ধু চেতনার বাতিঘর হয়ে আমাদের মাঝ বেঁচে থাকবেন যতদিন পৃথিবী থাকবে।

জাতির পিতার দু’টো স্বপ্ন ছি্ল। একটি হলো ভৌগলিক মুক্তি, আরেকটি হলো- অর্থনৈতিক মুক্তি। ভৌগলিক মুক্তি তিনি তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পেরেছিলেন। আর অর্থনৈতিক মুক্তির কাজটি তার জীবদ্দশায় অসমাপ্ত  রয়েছে। তিনি যে ভৌগলিক মুক্তি আমাদের দিয়েছেন তার সুবিধাভোগী আমরা সকলেই। তার এই অসমাপ্ত কাজটির দায়িত্ব আমাদের সকলের। জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ তার উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। আধূনিক বাংলাদেশের রুপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করতে হবে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজকে সম্পন্ন করতে।

ড. এম মোশাররফ হোসেন এফসিএ বলেন, বঙ্গবন্ধুর বীমার সঙ্গে সম্পৃক্ত হবার কারনেই তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকান্ডটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পেরেছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু যে ৬ দফা দিয়েছেন সেখানে দুটো দিক ছিল। একটি ছিল রাজনৈতিক এবং অন্যটি ছিল অর্থনৈতিক। ৬ দফার তিনটি দফায় অর্থনৈতিক মুক্তির যে দিক নির্দেশনা ছিল তা সত্যিকারেই তাকে একজন উঁচু মাপের অর্থনীতিবিদ বলা যায়। বঙ্গবন্ধু বীমা পরিবারেরই একজন সদস্য ছিল। আমরা তারএবং তার সঙ্গে যারা ঘাতকের হাতে নিহত হয়েছেন তাদের সকলেরই রুহের মাগফিতার কামনা করছি।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীকে ভালবাসতেন। বাঙ্গালীর ওপর তার ভীষণ আস্থা ছিল। তাই তিনি বলেছিলেন যে, আমি যদি হুকুম দিবার না ও পারি- তোমাদের যা আছে তাই নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। কিছু বিশেষ মাসে আমরা বঙ্গবন্ধুকে স্বরণ করি কিন্তু অন্য মাসগুলোয় আমরা তাকে তেমন স্বরণ করি না। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরুপ বাংঙ্গালীর উচিত তাকে সবসময় স্বরণ করা। 

মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, আর্থিক সেক্টরে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে আমারা একটি সংকলন বের করেছি। সেখানে আমরা আশ্চার্য  হয়ে যাই যে, তিনি কিভাবে ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য সকল খাত গুছিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, বীমাকে যদি সাধারণ মানুষের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি তাহলেই অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হবে। অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব হবে জনাসাধারনের। জনমুখী ও উদ্ভাবনী প্রোডাক্টের মাধ্যমে জনসাধারনের কাছে বীমাকে নিয়ে যেতে পারলেই বঙ্গবন্ধুর আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন হবে। তাহলেই বীমা দিবসেরও স্বার্থকতা হবে।

বিএম ইউসুফ আলী বলেন, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামক একটি দেশের জন্ম হতো না। এজন্য বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যখনই তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয়ে লিপ্ত হলেন তখনই দেশী ও বিদেশী শত্রুরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বাংলাদেশ নামক দেশটিকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দিতে।কিন্তু পরাজিত শত্রুদের সে আশা পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আজ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে।