গোঁজামিলে ভরা চার্টার্ড লাইফের আর্থিক প্রতিবেদন

তাফহিমুল ইসলাম সুজন: ২০২০ সালের ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকার ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবটি পরের বছর ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে হয়ে গেছে ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আবার গ্রুপ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পলিসির ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকার প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবটি পুরোটাই মুছে দেয়া হয় ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে।

শুধু প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবই নয়- ব্যবসা সংগ্রহে কমিশন বাবদ খরচ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কত হয়েছে তার কোন সঠিক হিসাব যেমন নেই তেমনি কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ কত তারও কোন সঠিক হিসাব নেই চার্টার্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে।

আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব গোপন করা বা গোঁজামিল দিয়ে সঠিক হিসাব না দিয়ে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিকে আইনে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এভাবেই আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স। শুধু তাই নয়, আয়-ব্যয়ের এমন আর্থিক প্রতিবেদন দিয়েই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এবং সাধারণ বিনিয়োগকারিদের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন পেয়েছে কোম্পানিটি।

ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি’র অনুসন্ধানে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

হিসাবের গড়মিলে ৬ কোটি টাকার প্রিমিয়াম ও ১ কোটি টাকার কমিশন গোপন

২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের লাইফ রেভিনিউ একাউন্টে প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবটিতে দেখানো হয়, ২০২০ সালে মোট প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। যার মধ্যে- ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা, নবায়ন প্রিমিয়াম ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং গ্রুপ বীমার প্রিমিয়াম ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। কিন্তু পরের বছর ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ২০২০ সালের প্রিমিয়াম সংগ্রহের ওই হিসাবটি পুরোটাই পরিবর্তন করা হয়।

২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের লাইফ রেভিনিউ একাউন্টে ২০২০ সালের ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯১ টাকা। নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ দেখানো হয় ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

অর্থাৎ ২০২০ ও ২০২১ সালের ২টি আর্থিক প্রতিবেদনে প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবে গড় মিল করা হয়- ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম সংগ্রহ ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া গ্রুপ বীমার ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাব ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদন থেকে পুরোটাই গোপন করা হয়।

কি কারণে কোম্পানিটি এই ধরণের গড়মিলের হিসাব দিতে পারে তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কমিশন খাতে প্রকৃত খরচ আড়াল করতে এই গড়মিলের হিসাব দিয়েছে কোম্পানিটি। গড়মিলের এই হিসাব দিয়ে কোম্পানিটি কমিশন বাবদ ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকার খরচ গোপন করেছে। 

চার্টার্ড লাইফের ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রিমিয়াম সংগ্রহের যে হিসাব দিয়েছে তাতে কোম্পানিটির মোট কমিশন খরচ ৬ কোটি ৭২ লাখ ২৯ হাজার ২৭০ টাকা। এর মধ্যে ১ম বর্ষে ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বা ৩৭ শতাংশ এবং নবায়নে ৭৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বা ৮.৫ শতাংশ।

এই হারে খরচের হিসাব করা হলে ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রিমিয়াম সংগ্রহ হিসাব পরিবর্তন করে যে হিসাব দিয়েছে তাতে কোম্পানিটির কমিশন বাবদ মোট খরচ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার ১৮২ টাকা। অর্থাৎ কমিশন বাবদ খরচ কমে যায় ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

প্রিমিয়াম সংগ্রহের হিসাবে গড়মিলের তথ্য দিয়ে কমিশন কমানোর এই চিত্রটি পাওয়া যায় চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে। তবে সেখানেও সঠিক তথ্য দেয়নি বীমা কোম্পানিটি।

২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ২০২০ সালের প্রিমিয়াম সংগ্রহ বাবদ কমিশন খরচ দেখানো হয় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে তা দেখানো হয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। কমিশন কমানো হয় ৭৮ লাখ টাকা। যদিও তা হওয়ার কথা ১ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

সম্পদ বেশি দেখিয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা

২০২১ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ ৬১ কোটি টাকা। অথচ আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখা যায়, ২০২১ সালে কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ হবে ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ বেশি দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে গোঁজামিলের হিসাব দিয়ে সম্পদ বাড়িয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। আর বকেয়া প্রিমিয়ামকে সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে সম্পদ বাড়িয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে চার্টার্ড লাইফের এই ‘চলতি বছরের লাইফ ফান্ড’ বেড়েছে সর্বমোট ৩৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর ২০১৩ সালে কোম্পানিটির মোট সম্পদ ছিল ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এই হিসাবে কোম্পানিটির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

চলতি বছরের লাইফ ফান্ডের এই হিসাবটি করা হয়েছে- আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে। কোম্পানির আয়ের খাতগুলোর মধ্যে- প্রিমিয়াম আয়, বিনিয়োগ থেকে আয় ও অন্যান্য আয় এবং ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে- পুনর্বীমা প্রিমিয়াম, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, দাবি পরিশোধ এবং অন্যান্য ব্যয়কে হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখ্য, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্ষেত্রে সব ধরণের আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে কোম্পানির উদ্বৃত্ত টাকার হিসাব করা হয়। উদ্বৃত্ত এই টাকাকেই চলতি বছরের লাইফ ফান্ড বলা হয়। চলতি বছরে যে পরিমাণ লাইফ ফান্ড বাড়ে বা কমে কোম্পানির মোট সম্পদ সেই পরিমাণই বাড়ে বা কমে।

অন্যদিকে ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সম্পদ বাড়ানো হয়েছে আদায়যোগ্য বকেয়া প্রিমিয়ামকে সম্পদ হিসাবে দেখিয়ে।

অথচ আইন অনুসারে বকেয়া প্রিমিয়ামকে সম্পদ হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই। আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া নবায়ন প্রিমিয়াম পরের বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে আদায় না হলে তা সম্পদে অর্ন্তভু্ক্ত হবে না।

১৩ কোটি টাকার খরচ হয়ে গেছে ১৮ কোটি

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের লাইফ রেভিনিউ একাউন্টে চার্টার্ড লাইফের মোট খরচ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। অথচ ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের এই মোট খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির খরচের হিসাবের গড়মিল ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

কোম্পানিটির ২০১৯ সালের মোট খরচের মধ্যে রয়েছে- ২ কোটি ১০ লাখ টাকা বীমা দাবি, ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা কমিশন, ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের মোট খরচে দেখানো হয়েছে- ২ কোটি ১০ লাখ টাকার বীমা দাবি, মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা কমিশন, ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের দু’টি হেডে ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা ও ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা) এবং অন্যান্য ব্যয় ৫৬ লাখ টাকা।

এছাড়াও ২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের (টোটাল ম্যানেজমেন্ট এক্সপেন্স) ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায় অন্যান্য ব্যয় ৫৬ লাখ টাকা যুক্ত করে হিসাব করা হয়েছে। আবার মোট ব্যয়ের (টোটাল এক্সপেন্স) হিসাবের ক্ষেত্রেও অন্যান্য ব্যয়ের ৫৬ লাখ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হিসাবটিতে মিল পাওয়া যায়নি।

ব্যবসা শুরুর প্রথম ৩ বছরে গ্রাহকের জমা করা সব টাকাই খরচ

দেশের লাইফ বীমা খাতে ২০১৩ সালে বীমা ব্যবসার নিবন্ধন পায় চার্টার্ড লাইফ। কোম্পানিটি পলিসি বিক্রি শুরু করে ২০১৪ সাল থেকে।

প্রথম বছরে চার্টার্ড লাইফ প্রিমিয়াম আয় করে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই সময় ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করে ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ব্যয়ের বৈধতা ছিল ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বাকি ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় বা অবৈধ ব্যয়। প্রথম বছরেই কোম্পানিটি গ্রাহকের জমাকৃত আমানত সব খরচ করে ফেলে।

একইভাবে ব্যবসার দ্বিতীয় বছর ২০১৫ সালে কোম্পানিটি প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এই বছর ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করে গ্রাহকের সব টাকা খেয়ে ফেলে কোম্পানিটি।

ব্যবসার তৃতীয় বছরেও গ্রাহকের সব টাকা খেয়ে ফেলে চার্টার্ড লাইফ। ২০১৬ সালে ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করে ৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর এই বছর প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ৭ কোটি টাকা। এই বছর ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয়ের সীমা ছিল ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। অবৈধ ব্যয় বা অতিরিক্ত ব্যয় করে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

ব্যবস্থাপনা খাতে অবৈধ ব্যয় ২৯ কোটি টাকা

প্রতিষ্ঠার ৯ বছরে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স বীমা গ্রাহকদের জমা করা প্রিমিয়ামের টাকা থেকে ব্যবস্থাপনা খাতে ২৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করেছে। অথচ আইন অনুসারে এই ব্যয় অবৈধ।

এই অতিরিক্ত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে- ২০১৪ সালে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১৬ সালে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২০১৭ সালে ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১৯ সালে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা, ২০২০ সালে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং ২০২১ সালে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

চার্টার্ড লাইফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য যারা

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড দেশের বীমা খাতে ব্যবসা করার অনুমোদন লাভ করে ২০১৩ সালে। উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস সহিদ এমপি কোম্পানিটির চেয়ারম্যান এবং শাইখ সিরাজ ভাইস-চেয়ারম্যান।

বীমা কোম্পানিটির অন্যান্য পরিচালকের মধ্যে রয়েছেন- মোহাম্মদ নূর আলী, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল আকতার, গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন খান, তৌসিফ মাশরুরুল করিম, হাসিব আহমেদ ও শামশেদ আলী।

এ ছাড়াও মোহাম্মদ ফারুক এফসিএ ও জাহরুল সাইদ বখত এফসিএমএ চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিরপেক্ষ পরিচালক।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয় চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’র মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জিয়াউল হক’র সাথে। তবে মৌখিকভাবে তিনি বিষয়টি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে গত ১২ অক্টোবর অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিতভাবে মতামত চাওয়া হয়। এ প্রেক্ষিতে ১৭ অক্টোবর ই-মেইলে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সাথে কোম্পানিটি সচ্ছতার সাথে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি ও ব্যবসা করে আসছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বাংলাদেশ (এফআরসি)’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাঈদ আহমেদ এফসিএ বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি একটি গুরুতর অপরাধ। চার্টার্ড লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে আইন ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। একইসঙ্গে এ অসঙ্গতির মাধ্যমে যদি কোন প্রিমিয়াম গোপন করা হয়ে থাকে তাও খতিয়ে দেখা হবে।

সাঈদ আহমেদ আরো বলেন, বীমা কোম্পানিটি এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছেও ব্যাখ্যা চাওয়া হবে- কেন এই পরিবর্তন। একইসঙ্গে আর্থিক প্রতিবেদনটিতে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও) নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কিনা বা একাউন্ট স্ট্যান্ডার্ড রুলস ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গোঁজামিলে ভরা আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারবাজারে অনুমোদ নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি তা সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।