পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুমূর্ষু অবস্থা প্রসঙ্গে
এ কে এম এহসানুল হক, এফসিআইআই: গত ৩ জুন এই পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আর্থিক অস্বচ্ছলতার এক ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে উঠেছে। মুমূর্ষু রোগী বা অস্থি-চর্মসার রুগ্ন ব্যক্তির সাথে এই অবস্থার তুলনা করা যেতে পারে।
বীমার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা। জানামতে দেশের অনেক বীমা কোম্পানি বিশেষ করে জীবন বীমা কোম্পানি মারাত্মক রকম আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে।
উল্লেখিত প্রতিবেদন অনুযায়ী পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লাইফ ফান্ডসহ বীমা গ্রাহকের আমানতের সমগ্র টাকা ব্যয় করে রীতিমতো অস্তিত্ব সঙ্কটে হাবুডুবু খাচ্ছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি হয়েছে মূলত বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা এবং বীমাখাতের সার্বিক উন্নয়ন সাধনের জন্য। বিগত প্রায় এক দশকে বীমা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর ন্যস্ত এই গুরুদায়িত্ব পালনে কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।
বীমাখাতের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিলে এ কথা মনে হওয়া হয়তো অস্বাভাবিক হবে না যে, বীমা কর্তৃপক্ষ বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে বরং বীমা কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় অধিক মনোযোগী বা উৎসাহী।
বীমা কর্তৃপক্ষের উচিত আর কাল বিলম্ব না করে বীমা আইন লঙ্ঘনকারী বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বীমা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসা। অন্যথায় বীমার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যহত বা পরাস্ত হতে বাধ্য।