ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা, চাপের মুখে বীমা কোম্পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৪ জুন। ভেনেজুয়েলায় মাটির নিচে শুরু হয় ধারাবাহিক দুইটি শক্তিশালী কম্পন। প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, এরপর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের কম ব্যবধানে ৭.৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন। এই অল্প সময়ের ব্যবধানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্যমতে, এটি ছিল অগভীর স্ট্রাইক-স্লিপ ধরনের ভূমিকম্প। এই ধরনের ভূমিকম্পে শক্তি সরাসরি ভূ-পৃষ্ঠে পৌঁছে যায়, ফলে ক্ষতির মাত্রা দ্রুত বাড়ে। ঘটনার পর থেকে শতাধিক আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজকে দীর্ঘায়িত করেছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক বলছে, এই ঘটনায় মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। তবে এই ক্ষতির কত অংশ বীমা কাভারেজের আওতাভুক্ত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা এখন শুধু ভেনেজুয়েলার ভেতরে নয়, বৈশ্বিক পুনঃবীমা খাতেও চাপ তৈরি করছে।

ধ্বংসের চিত্রও দ্রুত স্পষ্ট হতে থাকে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায় প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, সড়ক, বিমানবন্দর এবং পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কারাকাস, লা গুয়াইরা, পুয়ের্তো কাবেয়ো, ভ্যালেন্সিয়া এবং পেতারে অঞ্চলে।

এই ধাক্কার প্রভাব সরাসরি মানুষের জীবনে পড়ে। নিহতের সংখ্যা ১,৯০০ থেকে ৩,৩০০-এর বেশি হতে পারে। আহতের সংখ্যা ১০,০০০ ছাড়িয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ। প্রায় ৬.৮ মিলিয়ন মানুষ জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। জাতিসংঘের মতে, খাদ্য, পানি, চিকিৎসা এবং আশ্রয়ের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি আগে থেকেই চাপের মধ্যে ছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং তেলনির্ভর কাঠামো দেশের পুনর্গঠন সক্ষমতাকে সীমিত করেছে। এই ভূমিকম্প সেই দুর্বল কাঠামোর ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে।

বীমা খাতেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। দেশে ৩০ থেকে ৪০টি বীমা কোম্পানি থাকলেও বাজার ছোট এবং বিভক্ত। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সুদেআসেগ কার্যক্রম চালালেও অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তাদের সক্ষমতা সীমিত করেছে। বীমা প্রবেশমাত্রা মাত্র ১% থেকে ২% হওয়ায় বড় অংশের জনগণ কাভারেজের বাইরে।

দেশটির প্রধান বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে মারকান্তিল সেগুরোস, ম্যাপফ্রে ভেনেজুয়েলা, কারাকাস সেগুরোস এবং হোরিজোন্তে সেগুরোস। তবে বড় ধরনের দুর্যোগ সামলানোর সক্ষমতা সীমিত। সীমিত কাভারেজ, পুনঃবীমা অনিশ্চয়তা এবং সম্পদের মূল্যায়ন সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এই ভূমিকম্প এখন শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়। এটি একটি অর্থনৈতিক চাপ, মানবিক সংকট এবং বীমা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে।