আইডিআরএ চেয়ারম্যান: দক্ষতা, স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজন

শিপন ভূইয়া: বাংলাদেশের বীমা খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর পেনিট্রেশন খুবই কম। বীমা খাতের উন্নতি না হলে দেশের অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। এই উন্নতি সাধনের জন্য সঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন, এবং সেই নেতৃত্বের জন্য আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদে একজন যোগ্য ব্যক্তির নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত আইডিআরএ বীমা খাতের সুষ্ঠু উন্নয়ন ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে, আইডিআরএ চেয়ারম্যানদের অনেকেই তাদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেননি। বিশেষ করে, কিছু কোম্পানির মালিক পক্ষ এতটা প্রভাবশালী ছিল যে, তারা আইডিআরএ চেয়ারম্যানের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ড. এম আসলাম আলম, আইডিআরএ’র সর্বশেষ চেয়ারম্যান, ব্যক্তিগত কারণে মার্চ ২০২৬ এ পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য সরকারের উদ্যোগ কিছুটা দ্রুত হয়েছে। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সালে, সংসদে একটি নতুন সংশোধিত আইন পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬৭ বছরের বয়সসীমা তুলে দেয়া হয়েছে। তবে, এটি জনগণের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে- এই সংশোধনী কি শুধুমাত্র বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্যে নাকি দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য?
আইডিআরএ চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দেয়ার পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। যদি এই সংশোধনী সত্যিই দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির নিয়োগের জন্য হয়, তবে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে। তবে যদি এটি বিশেষ ব্যক্তির সুবিধার জন্য হয়, তবে তা বীমা খাতের উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের স্বার্থের প্রতি খারাপ প্রভাব ফেলবে।
পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা ছিল সীমিত, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ছিল কম। অনেক সময় প্রভাবশালী কোম্পানির মালিকরা তাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেছেন। এটি শুধু বীমা শিল্পের উন্নয়নেই বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং গ্রাহকের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। সুতরাং, একজন সফল চেয়ারম্যানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান হিসেবে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তাকে একাধারে নেতৃত্ব, সততা, এবং স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে পুরোপুরি স্বচ্ছতা ও সহায়তা থাকতে হবে যেন চেয়ারম্যান তার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারেন। যদি এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়, তবে তা বীমা খাতের পুনর্গঠন এবং উন্নয়নে সহায়ক হবে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই পদের জন্য একজন যোগ্য ব্যক্তি নিয়োগ করা খুবই প্রয়োজন। সরকারের উচিত, একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং স্বাধীন ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ করা, যাতে দেশের বীমা শিল্পের দুর্দশা দূর করা যায় এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়। অন্যথায়, থাবাবিহীন বাঘ যেমন বিড়ালের মতো হয়ে যায়, তেমনি বীমা শিল্পও তার প্রভাব হারিয়ে ফেলবে।
লেখক: কলামিস্ট (ইন্স্যুরেন্স সেক্টর)



