ফ্যামিলি কার্ডে ক্ষুদ্রবীমার অপার সম্ভাবনা!

শিপন ভূঁইয়া: বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নয়, বরং মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগও বটে।
আগামী পাঁচ বছরে এই কার্ডের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হবে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে জরিপ চালিয়ে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। এই কার্ডে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার পাবে ২৫০০ টাকা। চলতি বছর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, চলতি অর্থবছর অর্থাৎ জুন পর্যন্ত ৮৬ হাজার জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে এবং তাতে ৮৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। ধাপে ধাপে কার্ডধারীর সংখ্যা বাড়বে।
ক্ষুদ্রবীমা স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য একটি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, যা কম প্রিমিয়ামে অসুস্থতা, সম্পত্তির ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঝুঁকির বিরুদ্ধে সাময়িক সুরক্ষা প্রদান করে তাদের পুনরায় দারিদ্র্যের কবল থেকে রক্ষা করে। যেখানে প্রচলিত বীমা পাওয়া যায় না সেখানে ক্ষুদ্রবীমা সুরক্ষাদান হিসেবে কাজ করে! ক্ষুদ্রবীমা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, অক্ষমতা, অসুস্থতা এবং কৃষি ক্ষতির মতো ঝুঁকি মোকাবিলা করে বিপর্যয়কর ব্যয় প্রতিরোধ করে।
রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষায় ক্ষুদ্রবীমা ফ্যামিলি কার্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেখানে রাষ্ট্র জরিপ ও প্রযুক্তির খরচ বাদে আগামী ৫ বছরে নগদ ১ লাখ ২১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের প্রদান করবে। নগদ সহায়তার একটা অংশ কার্ডধারীকে সরাসরি না দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষুদ্রবীমায় ব্যয় করতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর একটি আর্থিক সুরক্ষাজাল তৈরি হবে এবং বীমার সাথে মানুষের সম্পৃক্ততাও বাড়বে।
লেখক: কলামিস্ট (ইন্সুরেন্স সেক্টর)



