প্রিমিয়াম ৫৫ কোটি ডলার, ক্ষতির দাবি ৯০ কোটি: কেন বাড়ছে স্যাটেলাইট বীমার ঝুঁকি?

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মহাকাশ বীমা খাতে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালে এই খাতে ক্ষতির দাবি ছিল প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় প্রায় ৩৫ কোটি ডলার বেশি ক্ষতিপূরণের চাপ তৈরি হয়। বড় এই ক্ষতির পর বীমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি মূল্যায়নের পদ্ধতি বদলাতে শুরু করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ও কভারেজের শর্তও পুনর্বিবেচনা করছে।

স্যাটেলাইট বীমা এমন একটি বিশেষায়িত বীমা, যা স্যাটেলাইট নির্মাণ, উৎক্ষেপণ এবং কক্ষপথে পরিচালনার সময় সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির সুরক্ষা দেয়। বাণিজ্যিকভাবে এই বীমা ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি চালু হয়। বর্তমানে লয়েডস অব লন্ডন, মিউনিখ রি, সুইস রি, অ্যাক্সা এক্সএল, অ্যালিয়ানজ কমার্শিয়াল এবং এইচডিআই গ্লোবাল স্পেশালটি-এর মতো আন্তর্জাতিক বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান এই ঝুঁকি বহন করে। তবে একটি স্যাটেলাইটের আর্থিক মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণত একাধিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ঝুঁকি ভাগ করে নেয়।

সাধারণভাবে এই বীমার আওতায় উৎক্ষেপণ ব্যর্থতা, কক্ষপথে পৌঁছাতে না পারা, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কক্ষপথে পরিচালনার সময় যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে মহাকাশ বর্জ্যের আঘাতে স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে তৃতীয় পক্ষের দায়, দীর্ঘ সময় সেবা বন্ধ থাকা বা একই ঘটনায় একাধিক স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি সব পলিসিতে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ৪০ হাজার বস্তু পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইট। এছাড়া ১০ সেন্টিমিটারের বেশি আকারের মহাকাশ বর্জ্য রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি। এসব ধ্বংসাবশেষ ঘণ্টায় প্রায় ২৮ হাজার কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। ফলে খুব ছোট একটি কণাও একটি স্যাটেলাইটের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০২৫-২৬ সালে এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে। স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি সংঘর্ষ-পরিহার কৌশল গ্রহণ করেছে। একই সময়ে বীমা কোম্পানিগুলোও কক্ষপথে বর্জ্যের ঘনত্ব, সংঘর্ষের সম্ভাবনা, কক্ষপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা এবং স্যাটেলাইটের নিরাপদে কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনাকে ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশ অর্থনীতি যত বড় হবে, স্যাটেলাইট বীমার গুরুত্বও তত বাড়বে। তবে এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ বর্জ্যের ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং সেই ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বীমা কভারেজ ও প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা।

মন্তব্য সমূহ ()

আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।