বৃহস্পতিবার , ৯ বৈশাখ, ১৪২৮ , ২২ এপ্রিল, ২০২১

সাগরের পরিবেশ রক্ষায় বীমা কোম্পানিগুলোকে জাতিসংঘের নির্দেশনা


Published: 2021-03-03 17:52:29 BdST

আবদুর রহমান আবির: সাগরের পরিবেশ রক্ষা এবং এটাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বীমা কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে ইউনাইটেড নেশন এনভের্নমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) । শনিবার (২৭, ফেব্রুয়ারি, ২০২১) এসব নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও একই উদ্দেশ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের জন্যও নির্দেশনা দিয়েছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থা।

ইউএনইপি বলছে, পাইরেট ফিশিং বা বেআইনিভাবে মৎস শিকারের কারণে সাগরের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত মৎস আহরণের কারণে এরইমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক আবাসস্থল এবং বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসপ্রায়। এ ছাড়াও অবৈধ, অগোচরীভূত এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মৎস শিকারিদের কারণে আইন মান্যকারী জেলেদের মৎস আহরণের সুযোগ ও প্রাপ্যতা কমিয়ে আনতে পারে।

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচী (ইউএনইপি) বলছে, অবৈধ, অগোচরীভূত এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মৎস শিকার বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এবং অমীমাংসিত একটি সমস্যা। যার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর ১০ থেকে ২৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান বা খরচ হয়। এক্ষেত্রে প্রতি বছর ১১ মিলিয়ন থেকে ২৬ মিলিয়ন টন মৎস আহরণ করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এই পাইরেট ফিশিং বা বেআইনিভাবে মৎস শিকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সংগ্রামে বীমাখাতকে প্রধান মিত্রশক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে ইউএনইপি। সংস্থাটি বলছে, নতুন এই নির্দেশনা বীমা কোম্পানিগুলোকে দুর্বৃত্তদের জাহাজ বা নৌকা সনাক্ত করতে সহায়তা করবে এবং যারা অবৈধ মৎস আহরণের সাথে জড়িত তাদের বীমা সুবিধা না দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

এর ফলে সামুদ্রিক অপরাধীদের এই আর্থিক নির্ভরতা অপরিহার্যভাবে সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। একইসাথে বিশ্বের মৎস আহরণ শিল্পের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহীতা তৈরিতে সহায়তা করবে এই নির্দেশনা। অন্যদিকে বেআইনিভাবে মৎস শিকারীদের কারণে বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় সৃষ্ট আইনগত, আর্থিক এবং মর্যাদাগত ঝুঁকিও কমাতে পারবে।

ইউএনইপি’র নির্দেশনায় বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ১৮টি সতর্ক সঙ্কেত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে উচ্চতর ঝুঁকির জাহাজ এবং চুক্তিসমূহ চিহ্নিত করতে পারবে বীমা কোম্পানিগুলো। নির্দেশনায় উল্লেখিত সতর্ক সঙ্কেতগুলো না মানলে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য যেসব ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে সেগুলো হলো:

বীমা দাবির সম্ভাবনা বৃদ্ধি, যেমন- এ ধরণের জাহাজের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবসায়ীক চর্চা নিম্ন মানের জাহাজ সুরক্ষা নিয়ে মৎস শিকারের সুযোগ তৈরি করে দেয় অবৈধ, অগোচরীভূত এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মৎস শিকারীদের।

অন্যান্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা, যেমন- মানবপাচার, ক্রিতদাস বা অবৈধ অস্ত্র অথবা মাদকদ্রব্য পাচারের মতো অন্যান্য অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত করে।

প্রতারণার বহিঃপ্রকাশ, যেমন- যদি কোন সমস্যার আশঙ্কা বা মুখোমুখি হয় তাহলে অবৈধ, অগোচরীভূত এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মৎস শিকারীরা জাহাজ ডুবিয়ে এবং অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে বীমা দাবি উত্থাপন করতে পারে।

আইনি দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে সরকারীভাবে তালিকাভুক্ত আইইউইউ জাহাজগুলো বীমা করলে বীমাকারীদের ফৌজদারি, নাগরিক বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার দায়বদ্ধ করে রাখতে পারে।

সুখ্যাতি নষ্টের কারণে লোকসান, অর্থাৎ স্টেকহোল্ডার, গ্রাহক, বিনিয়োগকারী এবং মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে সুখ্যাতি নষ্ট হাওয়ার কারণে লোকসান হতে পারে।

এর আগে ২০১৭ সালে বৈশ্বিক স্তরে আইইউইউ ফিশিংকে মোকাবিলার জন্য টেকসই সামুদ্রিক বীমা সম্পর্কিত একটি যুগান্তকারী শিল্প বিবৃতি প্রকাশ করেছি ওসিয়ানা এবং পিএসআই। যা বীমা কোম্পানিগুলোকে আইইউইউ ফিশিং হ্রাস করতে এবং চূড়ান্তভাবে অপসারণে সহায়তা করতে পারে এমন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার জন্য সামুদ্রিক বীমা মাধ্যমে সমুদ্রের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।

বিবৃতিটি আলিয়ঞ্জ গ্লোবাল করপোরেট ও স্পেশালটি, এএক্সএ, জেনারেলি, হানস্যাটিক আন্ডার রাইটারস এবং দ্য শিপা ওনার্স ক্লাব সহ-স্পনসর করেছে। বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে ৩০ টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় বীমাকারী, বীমা বাজার সংস্থা এবং প্রধান স্টেকহোল্ডাররা বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে এবং সমর্থন করেছে।

ওসিয়ানা এবং পিএসআই আরও বীমা কোম্পানি, পুনর্বীমা কোম্পানি, এজেন্ট, ব্রোকার, বীমা সমিতি, বীমা নিয়ন্ত্রক ও তদারককারী কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি সংস্থাগুলোকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে এবং নির্দেশিকাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের সমর্থন প্রদর্শন করার আহবান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচী (ইউএনইপি) জাতিসংঘের একটি সংস্থা এবং তার পরিবেশগত কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরিবেশগতভাবে স্বীকৃত নীতি ও অভ্যাস বাস্তবায়নে সহায়তা করে। ১৯৭২ সালের জুন মাসে স্টকহোম কনফারেন্সে গৃহীত প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে, জাতিসংঘের বৈশ্বিক পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনাইটেড নেশন এনভের্নমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু সম্পাদকীয় কার্যালয়
৫৩ মডার্ন ম্যানসন, মতিঝিল সি/এ, লেভেল # ১১, স্যুট # ৬, ঢাকা-১০০০।
ফোন: ০২ ৯৫১৪৮৭২, ইমেইল: insurancenewsbd@gmail.com