হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পুনর্বীমা কর্মসূচি

সংবাদ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সরকার-সমর্থিত সামুদ্রিক পুনর্বীমা কর্মসূচি চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই কর্মসূচির প্রধান মার্কিন বীমাকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মার্কিন বীমা কোম্পানি চাব।

মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) ১১ মার্চ ২০২৬ এ ঘোষণা দেয়। নতুন মেরিটাইম রিইনস্যুরেন্স প্ল্যানের প্রধান অংশীদার ও লিড আন্ডাররাইটার হিসেবে চাব কাজ করবে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধসংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়ায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধজনিত ক্ষতির জন্য সরকারি আর্থিক ব্যাকস্টপ দেয়া হবে। এর মধ্যে জাহাজের হাল ও মেশিনারি, কার্গো এবং অন্যান্য যুদ্ধসংক্রান্ত সামুদ্রিক ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা বেড়েছে। ফলে বেসরকারি বীমা বাজারে কভারেজ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

প্রেসিডেন্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি গঠন করা হয়েছে। এটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আওতায় ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কভারেজ দেয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল কমে গেছে।

কর্মসূচির আওতায় চাব লিড ইনসিউরার হিসেবে যোগ্য জাহাজগুলোর জন্য বীমা পলিসি ইস্যু করবে। পাশাপাশি অন্যান্য মার্কিন বীমা কোম্পানিও পুনর্বীমা সক্ষমতা দিয়ে এই ব্যবস্থায় অংশ নেবে।

ডিএফসির মতে, চাবের মেরিন ও রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমায় অভিজ্ঞতা এবং মার্কিন সরকারের আর্থিক সহায়তা শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য বীমা প্রাপ্যতা স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধঝুঁকির প্রিমিয়াম দ্রুত বেড়েছে। অনেক বীমা কোম্পানি তাদের এক্সপোজার সীমিত করেছে বা প্রিমিয়াম বাড়িয়েছে। এতে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

চাবের চেয়ারম্যান ও সিইও ইভান গ্রিনবার্গ বলেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, এই উদ্যোগ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং জাহাজ মালিক ও বীমাকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, পুনর্বীমা ব্যাকস্টপ এবং অঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে তেল, গ্যাসোলিন, এলএনজি ও জেট ফুয়েলবাহী জাহাজের চলাচল ধীরে ধীরে আবার বাড়বে।