নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘আত্মসাৎ-কারসাজিতে প্রাইম ইসলামী লাইফের তহবিল থেকে উধাও ৮৪৮ কোটি টাকা’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কোম্পানির একটি ই-মেইল ঠিকানা ([email protected]) থেকে পাঠানো বার্তায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিবাদে দাবি করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানির পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদের সময়ে কোম্পানির তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এসব অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছে, যা এখনো বিচারাধীন।
প্রতিবাদে প্রকাশিত সংবাদটিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে বলা হয়, প্রতিবেদনে তথ্য সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
আত্মসাৎ-কারসাজিতে প্রাইম ইসলামী লাইফের তহবিল থেকে উধাও ৮৪৮ কোটি টাকা
কোম্পানির লাইফ ফান্ড নিয়ে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্যও সঠিক নয় বলে দাবি করেছে প্রাইম ইসলামী লাইফ। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই কোম্পানির লাইফ ফান্ডের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবাদে আরও দাবি করা হয়, বর্তমানে ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক ভিত মজবুত করা হয়েছে। গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গ্রাহকের আস্থা ফিরে এসেছে।
আত্মসাৎ-কারসাজিতে প্রাইম ইসলামী লাইফের তহবিল থেকে উধাও ৮৪৮ কোটি টাকা (২য় পর্ব)
এ ছাড়া কিছু ‘চিহ্নিত সুযোগসন্ধানী ও কুচক্রী মহল’ কোম্পানির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসব ‘স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টার’ বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দাও জানিয়েছে কোম্পানিটি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
প্রাইম ইসলামী লাইফের প্রতিবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে অভিযোগ করা হলেও প্রতিবেদনের কোনো তথ্য, হিসাব বা অংশ সঠিক নয়, তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণসহ উল্লেখ করা হয়নি।
মূল প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে প্রাইম ইসলামী লাইফের ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব নথিতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সাবেক পরিচালকদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তেমনি এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হওয়ার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে মূল প্রতিবেদনে একাধিক শিরোনামে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, হিসাব ও তথ্য-প্রমাণের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে কোম্পানির পাঠানো প্রতিবাদে এসব তথ্যের কোন তথ্যটি ভুল বা কীভাবে ভুল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা বা পাল্টা তথ্য-উপাত্ত দেয়া হয়নি।
পাঠকদের অবগতির জন্য প্রাইম ইসলামী লাইফের প্রতিবাদ এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য প্রকাশ করা হলো।
আপনার একটি মন্তব্য লিখুন:
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।