ইন্দোনেশিয়ায় লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দাবি নিষ্পত্তিতে বাড়ছে জালিয়াতি, সতর্ক করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওজেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দাবি (ক্লেইম) নিষ্পত্তি ও যাচাই প্রক্রিয়াকে ঘিরে জালিয়াতির প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি (ওজেকে)। সংস্থাটি বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে অনিয়ম ধরা পড়ছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠিত চক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর সেই আস্থা দুর্বল হলে পুরো লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতের স্থিতিশীলতাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ওজেকে’র ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস সুপারভিশন বিভাগপ্রধান সুমারজোনো এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা এমন তথ্য পেয়েছেন যে বিভিন্ন এলাকায় জমা পড়া ক্লেইম নথিতে অস্বাভাবিক মিল দেখা যাচ্ছে। দাবি-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রায় একই কাঠামোর, দাবির বিবরণও প্রায় অভিন্ন এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় একই ধরনের ক্লেইম ধারাবাহিকভাবে জমা পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিকল্পিত ও সমন্বিত কর্মকাণ্ডের সন্দেহকে আরও জোরালো করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, জালিয়াতি শুধু কোম্পানির অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি গ্রাহক-সুরক্ষা ও বাজার শৃঙ্খলার ওপরও সরাসরি আঘাত।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরও জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে ক্লেইম-কেন্দ্রিক অপরাধের ধরন বহুমাত্রিক হয়েছে। কোথাও এজেন্টদের মাধ্যমে প্রিমিয়াম আত্মসাৎ বা অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে, কোথাও আবার দাবি ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথি জাল করার ঘটনা ধরা পড়েছে। কিছু ঘটনায় অভিযোগের মাত্রা আরও গুরুতর। বীমার অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কাও সামনে এসেছে। যদিও প্রতি বছর কতগুলো ভুয়া ক্লেইম শনাক্ত হয়, সে বিষয়ে ওজেকে আলাদা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি; তবে সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি তারা নিয়মিত নজরদারিতে রাখছে।

ওজেকে’র বিশ্লেষণে সমস্যার পেছনে একাধিক কাঠামোগত দুর্বলতার কথাও উঠে এসেছে। অনেক পলিসিধারক পলিসির শর্ত, ক্লেইম করার নিয়ম, কিংবা নিজেদের অধিকার ও দায়বদ্ধতা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। ফলে প্রতারকরা তথ্যঘাটতি ও অনভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে গভর্ন্যান্স ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল থাকলে প্রতারণা প্রতিরোধ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি; ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন প্রক্রিয়া বাড়ায় প্রতারকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর খুঁজে দ্রুত নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে বলে নিয়ন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ।

এই প্রেক্ষাপটে ওজেকে জানিয়েছে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে অনিয়ম মোকাবিলায় তারা নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কাঠামো আরও শক্তিশালী করছে। ২০২৪ সালে জারি করা ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অফ অ্যান্টি-ফ্রড স্ট্র্যাটেজিস ফর ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউশনস’ বিধিমালার মাধ্যমে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে জালিয়াতিবিরোধী কৌশল গ্রহণ, দাবি যাচাইয়ে কঠোরতা বৃদ্ধি এবং জালিয়াতির ইঙ্গিত পেলে তা ওজেকে-কে রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির লক্ষ্য হলো ক্লেইম নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করা, একই সঙ্গে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন এবং বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। (সংবাদ সূত্র: এশিয়া ইন্স্যুরেন্স রিভিউ)